নিউমোনিয়া

নিউমোনিয়া

নিউমোনিয়া হল এক ধরণের ফুসফুসের প্রদাহ। আমাদের ফুসফুসে জীবাণুর সংক্রমণের ফলে এই প্রদাহের সৃষ্টি হয়। শিশু এবং বয়স্ক উভয়ের জন্যই এটি গুরুতর রোগ। কখনো কখনো এটি জীবন সংশয়ের কারণ ঘটায়।
নিউমোনিয়ার লক্ষণ:
  • কাশি এবং তার সাথে হলুদ বা সবুজ রঙের শ্লেষ্মা (কফ্)
  • শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট
  • কাশির সঙ্গে রক্তপাত
  • শ্বাস নেওয়া বা কাশির সময় বুকে ব্যাথার অনুভূতি
  • শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের ভেতরে ঘরঘর আওয়াজ
  • টানা ৩ সপ্তাহের বেশি কাশি হওয়া
  • শরীরে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর (১০২-১০৩ ডিগ্রি বা তারও বেশি)
  • ক্লান্তি, সারা শরীরে ও বুকে ব্যথা
  • খাবারের অরুচি।

Figure: http://uphcp.gov.bd/cmsfiles/files/Child%20Pneumonia(1).pdf

পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের মাঝে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। শীতকালে এ রোগের প্রকোপ আরও বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস, হাঁপানি বা ক্রনিক ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত রোগী, কেমোথেরাপি নিয়েছেন, যারা হাঁটাচলা করতে পারেন না তাদের নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
  • এটি বায়ুবাহিত অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ যার কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫ বছরের কম বয়সী শতকরা ২২ জন শিশু মারা যায়। এ রোগের জীবাণু বিভিন্ন প্রকারে ছড়িয়ে থাকে। যেমন-

  • রোগাক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে
  • আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা কোন জিনিস ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁর শরীরে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে।
  • এ রোগের জীবাণু সুস্থ মানুষের নাক ও মুখে থাকতে পারে যা শ্বাস গ্রহনের মাধ্যমে ফুসফুসে ছড়িয়ে এ রোগ হতে পারে।
  • আবার কিছু ক্ষেত্রে জীবাণু রক্তের সাহায্যেও ফুসফুসে সংক্রমিত হতে পারে।
  • কাঁশি দেওয়ার সময় নাক-মুখ ঢাকতে হবে
  • সঠিক নিয়মে মাস্ক পরতে হবে, কাশির সময় টিস্যু/রুমাল ব্যবহার করতে হবে
  • ব্যবহৃত টিস্যু/রুমাল নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে
  • সামাজিক দূরত্ব (তিনফুট দূরত্ব) বজায় রাখতে হবে
  • সাবান/ স্যানিটাইজার বা পরিষ্কার পানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধুতে হবে
  • ধূমপানমুক্ত ও দূষণমুক্ত পরিবেশে থাকতে হবে
  • পুষ্টিকর খাবার, প্রচুর পানি, শাকসব্জি ও ফলমূল খেতে হবে।

তথ্যসূত্র: https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/শীতে-শিশুর-শ্বাসতন্ত্রের-সমস্যা-কী-করবেন-কখন-চিকিৎসকের-কাছে-যাবেন